Banglar Chokh | 澳洲幸运20开奖官网直播

ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে বাংলাদেশের জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৩৩, ১৩ মে ২০২৩

ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে বাংলাদেশের জয়

ছবি-সংগৃহীত

বাংলাদেশের ঘড়িতে সময় রাত পৌঁনে ২টা পার করেছে। বেশিরভাগ মানুষের এ সময়ে গভীর ঘুমে থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ চোখ ছিল নির্ঘুম। নজর ছিল টেলিভিশনের পর্দায় ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে। অপেক্ষা টাইগারদের জয় উদযাপন। আর সেই অপেক্ষার স্মরণীয় প্রতিদান দিয়েছে তামিম ইকবালের দল। চেমসফোর্ডের মাঠে রেকর্ড গড়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
 
শুক্রবার (১২ মে) ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও আয়ার‍ল্যান্ড। ম্যাচ শুরুর আগেই শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। তাতে ৫০ ওভার থেকে কমিয়ে ৪৫ ওভার করা হয়। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান করে আইরিশরা। জবাবে ৪৪.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

 চেমসফোর্ডে ওয়ানডেতে ১৯৮৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৪৭ রান করেছিল ভারত। এতদিন সেটিই ছিল মাঠটিতে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টিম ইন্ডিয়ার সেই রেকর্ড ভেঙে আয়ারল্যান্ড করে ৩১৯ রান। আর আইরিশদের গড়া সদ্য রেকর্ড ভেঙে জায়গা দখল করে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের দল করে ৩২০ রান। 

বড় রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় ৯ রানে আউট হন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আর লিটন দাস ফেরেন ২১ বলে ২১ রান করে। তিনি আউট হন দলীয় ৪০ রানে। লিটনের পরে সাকিব-শান্ত মিলে ৪৭ বলে ৬১ রানের জুটি গড়েন।
 
১৭তম ওভারে কার্টিস ক্যাম্ফারের শেষ বলে জর্জ ডকরেলের হাতে ক্যাচ দেন সাকিব। তিনি ২৭ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপরেই নাজমুল হোসেন শান্ত আর তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তাদের জুটিতে আসে ১০২ বলে ১৩১ রান। আর এখানেই ম্যাচে চালকের আসনে বসে তামিম বাহিনী।

ম্যাচটিতে ৮৩ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। আর হৃদয় তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তবে শান্তর সেঞ্চুরির পরেই আউট হন হৃদয়। তিনি ৫৮ বলে ৬৮ রান করে আউট হন। দলীয় ২৫৭ রানে ম্যাচ জয়ের নায়ক শান্ত আউট হন। তিনি ৯৩ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৭ রান করেন। শেষদিকে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম বাকি কাজটুকু সম্পূর্ণ করেন। তিনি ২৮ বলে ৪টি চারের সহায়তায় করেন অপরাজিত ৩৬ রান। 
 
এ দিন আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং ইনিংসে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন পেসার হাসান মাহমুদ। ওভারের পঞ্চম বলে তার শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন পল স্টার্লিং। হাসানের ইনসুইং বলে ইনসাইড এজ হয়ে স্টার্লিং ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে। ২ বল খেলেও কোনো রান তুলতে পারেননি আইরিশ এ ওপেনার।

স্টার্লিংকে হারিয়ে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন স্টেফেন দোহেনি ও অ্যান্ড্রু বালবার্নি। কিন্তু দুজনে মিলে স্কোর বোর্ডে আর ১৫ রান যোগ করলে ফের আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকারে পরিণত হন দোহেনি। স্টার্লিংয়ের মতোই দোহেনি ক্যাচ দেন মুশিকে। ফেরার আগে ২১ বলে ১২ রান করেন আইরিশ ওপেনার।

বালবার্নি ও হ্যারি টেক্টরের জুটিতে ঘুরতে থাকে আয়ারল্যান্ডের রানের চাকা। দলীয় ৫৬ রানে উইকেট পেতে পারত টাইগাররা। বোলিং প্রান্তে ছিলেন এবাদত ইসলাম। তার ব্যক্তিগত চতুর্থ ওভারের শেষ বলে উড়িয়ে শট খেলার চেষ্টা করেন টেক্টর। মিডউইকেট অঞ্চল থেকে দৌড়ে আসলেও বল তালুবন্দী করতে পারেননি শরিফুল ইসলাম। ফলে বেঁচে যান টেক্টর। জীবন পাওয়া টেক্টর শেষ পর্যন্ত ফিফটি তুলে নেন ৫২ বলে। পরের ওভারে দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করে আইরিশরা।
 
 আয়ারল্যান্ড শতরান তোলার পরপরই বালবার্নির উইকেট পায় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ৪২ রানে আইরিশ ব্যাটার শরিফুলের বলে বাংলাদেশ উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন। উইকেটে নেমেই সজোরে মারতে থাকা লরকান টাকারকে সাজঘরে পাঠান শরিফুল। ১১ বলে ১৬ রান করেন টাকার। এরপর দলীয় ১৬৭ রানে কার্টিস ক্যাম্ফারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম।

  ক্যাম্ফারের বিদায়ের পরে উইকেট ধরে রেখে তাণ্ডব চালাতে থাকে আয়ারল্যান্ড। টেক্টর ও ডকরেল দুজনেই ছিলেন ভয়ঙ্কর মারমুখী। ৯৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন টেক্টর। সেঞ্চুরি করে আরও বিধ্বসী হয়ে উঠেন এ ব্যাটার। ১৪০ রানে তাকে সরাসরি বোল্ড করেন এবাদত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ডকরেল। ৪৭ বলের ইনিংসে ৩ চার ও ৪ ছয়ে ৭৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। মার্ক অ্যাডায়ার করেন ২০ রান। তাতে দলীয় সংগ্রহ পৌঁছায় ৩১৯ রানে। সেটিকে টপকিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ৪৫ ওভারে ৩১৯/৬ (দোহেনি ১২, স্টার্লিং ০, বালবার্নি ৪২, টেক্টর ১৪০, টাকার ১৬, ক্যাম্ফার ৮, ডকরেল ৭৪*, অ্যাডায়ার ২০*; হাসান ৯-০-৪৮-২, শরিফুল ৯-০-৮৩-২, এবাদত ৯-১-৫৬-১, সাকিব ৯-০-৫৭-০, তাইজুল ৭-০-৫৯-১ ও মিরাজ ২-০-১৩-০)।
বাংলাদেশ: ৪৪.৩ ওভারে ৩২০/৭ (তামিম ৭, লিটন ২১, শান্ত ১১৭, সাকিব ২৬, হৃদয় ৬৮, মুশফিক ৩৬*, মিরাজ ১৯, তাইজুল ৯, শরিফুল ৪*; জোশুয়া ৯-০-৬৩-১, অ্যাডায়ার ৮.৩-১-৫২-১, গ্রাহাম ৬-০-৫৭-১, ম্যাকব্রাইন ৭-০-৪৯-০, ক্যাম্ফার ৫-০-৩৭-২ ও ডকরেল ৯-০-৫৮-২)।
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়